হিগস বোসন কণা আবিস্কারের সেই ভয়ংকর পরীক্ষা কি ছিল?

হিগস বোসন কণা আবিস্কারের সেই ভয়ংকর পরীক্ষা কি ছিল?

মানুষের জানার আগ্রহ পৃথিবীবাসীর জন্য হুমকি হতে পারে। কথাটা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কিন্তু এটি সত্য, এমন অনেক পরীক্ষা ইতোপূর্বে পৃথিবীতে করা হয়েছে যার কারণে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। এমনি একটি পরীক্ষা হচ্ছে দ্যা লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার, যার মাধ্যমে আবিস্কৃত হয় হিগস বোসন কণা যা গড পার্টিক্যাল নামেও পরিচিত। আজকে আমরা এই ভয়ংকর পরীক্ষা সম্পর্কেই জানব।

দ্যা লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার হচ্ছে সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত একটি পার্টিক্যাল এক্সিলারেটর। এটি ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্স দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। পৃথিবী কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল, বিগ ব্যাং এর সময় কি ঘটেছিল এবং মহাবিশ্বের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের জন্যে পদার্থ বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় এই পরীক্ষাটি চালানো হয়েছিল।

দ্যা লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার

সময়টি ছিল ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস। ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ করে তৈরী করা ১৭ মাইল লম্বা এই পার্টিক্যাল এক্সিলারেটর এর মধ্যে ৩০০ ট্রিলিয়ন প্রোটন কণাকে আলোর বেগের ৯৯.৯ শতাংশ গতিতে পরস্পরের সাথে ধাক্কা লাগানো হয়।

এই ধাক্কা লাগানোর উদ্দেশ্য ছিল মাইক্রোস্কোপিক ব্ল্যাক হোল তৈরী করা এবং সাব এটোমিক পার্টিক্যাল এর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা। যা আমাদের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও মহাকাশ বিজ্ঞানকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞানিদের কাছে সবচেয়ে ভয়ের কারণ ছিল, এই মাইক্রোস্কোপিক ব্ল্যাকহোলগুলো যদি চেইন রিয়েকশনের মাধ্যমে আশেপাশের বস্তু গুলোকে গ্রাস করতে শুরু করে তাহলে সমগ্র পৃথিবীটাই একটা ব্ল্যাকহোলে পরিণত হবে এবং পৃথিবীর কোন অস্তিত্বই থাকবে না।

ব্ল্যাক হোল

কিন্তু বাস্তবে এটি ঘটেনি শুধুমাত্র হকিং রেডিয়েশনের কারণে। একটি ব্ল্যাক হোল যখন তার শক্তি মহাকাশে রেডিয়েট করে তখন তাকে হকিং রেডিয়েশন বলে। ব্ল্যাকহোলটি যত ছোট হবে ততো দ্রুত তা রেডিয়াশন এর মাধ্যমে শক্তি ছড়িয়ে দিবে। ফলে এই পরীক্ষা থেকে সৃষ্ট ব্ল্যাকহোলগুলো রেডিশনের মাধ্যমে দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায় এবং পৃথিবী ধ্বংশের হাত থেকে রক্ষা পায়।

তাছাড়া এই পরীক্ষার সময় যদি কোনভাবে স্ট্রেঞ্জ ম্যাটার সৃষ্টি হতো এবং কোনভাবে বাইরের পরিবেশের সংস্পর্ষে আসতো তাহলে পৃথিবীর সকল বস্তুকে স্ট্রেঞ্জ ম্যাটারে রুপান্তর করে দিতে পারত। যদিও এই স্ট্রেঞ্জ ম্যাটার এখন পর্যন্ত তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানেই সীমাবদ্ধ আছে এবং বাস্তব পৃথিবীতে বা মহাবিশ্বে এটির অবস্থান বা অস্তিত্ব কোথায় আছে তা নিশ্চিত নয়।

তবে এই পরীক্ষার মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে এবং সাব এটোমিক পার্টিক্যাল সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে একটি নতুন কণা আবিষ্কার হয় যার নাম দেওয়া হয় হিগস বোসন কণা। বলে রাখা ভাল, এখানে বোসন নামটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানী প্রফেসর সত্যেন বোসের নাম থেকে নেয়া হয়েছে। যিনি প্রথম বারের মতো আমাদেরকে বোসন কণার অস্তিত্বের কথা জানিয়েছিলেন।

হিগস বোসন কণাকে গড পার্টিক্যলও বলা হয় কারণ এই কণার অন্য পার্টিক্যাল তৈরী করার ক্ষমতা রয়েছে। এই পরীক্ষাটি যখন চালানো হয়েছিল তখন বিভিন্ন পত্রিকায় তা একটি সফল পরীক্ষা হিসেবে ছাপানো হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষ এটা বুঝতেই পারেনি যে আসলে আমরা তখন একটি বড় বিপদ থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম।

Leave a Reply

Close Menu