ভবিষ্যতের দ্বিতীয় পৃথিবী কেমন হবে?

ভবিষ্যতের দ্বিতীয় পৃথিবী কেমন হবে?

আমাদের এই পৃথিবী মহাবিশ্বের বিশালতার কাছে অত্যন্ত নগণ্য। কিন্তু এই পৃথিবীর বিশেষত্ব আমাদের জানা যে কোন গ্রহকে ছাড়িয়ে যাবে সহজেই। কারণ এখানে রয়েছে ৭৫০কোটি বুদ্ধিমান প্রাণী মানুষের বসবাস। রয়েছে জানা অজানা অগণিত বিচিত্র প্রাণী যাদের মধ্যে রয়েছে এক কোষী ব্যাকটেরিয়া থেকে শুরু করে অতিকায় নীল তিমি।

পৃথিবীতে কি এমন জিনিস রয়েছে যার কারণে এখানে এত প্রাণের সমাহার ঘটেছে যা অন্য কোন গ্রহে নেই?এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে পানি। বেশিরভাগ বিজ্ঞানিরাই মনে করেন পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের শুরু এই পানি থেকেই হয়েছিল। এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, পৃথিবীতে পানি না থাকলে কোন প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব নয়।

এখন তাহলে আসা যাক আরেকটি প্রশ্নে। পৃথিবীতে তাহলে পানি কিভাবে আসল? আর অন্য কোন গ্রহে পানি নেই কেন? এর উত্তর হচ্ছে, সূর্য থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থানের কারণেই পৃথিবীতে পানির অস্তিত্ব রয়েছে। এই দূরত্বকে বলা হয় হ্যাবিট্যাবল জোন। এটি এমন একটি জোন যার থেকে সূর্যের দিকে কাছাকাছি গেলে তার অবস্থা হবে বুধ গ্রহের মতো উত্তপ্ত আর দূরে গেলে তা হবে মঙ্গলের মতো শীতল।

পৃথিবী সূর্য থেকে এই নির্দিষ্ট দূরত্বে তথা হ্যাবিট্যাবল জোনে অবস্থান করার কারণেই পৃথিবীর বায়ূমন্ডল খুব বেশি উত্তপ্ত বা শিতল নয়। ফলে এর বায়ূমন্ডল এবং আবহাওয়া পানির জন্যে উপযোগী হয়েছে এবং আবির্ভাব ঘটেছে অগণিত বিচিত্র সব প্রাণের।

এখন অবশ্যই প্রশ্ন জাগবে যে, তাহলে কি আমাদের সৌরমন্ডলের বাইরে অন্য কোন গ্যালাক্সিতে এমন গ্রহ থাকতে পারে না, যা তার সূর্য থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে হ্যাবিট্যাবল জোনে অবস্থান করছে? এর উত্তর হচ্ছে হ্যা। সম্প্রতি নাসার বিজ্ঞানিরা এমন গ্রহের সন্ধান পেয়েছে যা পৃথিবীর মত হ্যাবিট্যাবল জোনে অবস্থান করছে।

নাসার আবিস্কৃত এই নক্ষত্রের নাম ট্র্যাপিস্ট-১ যা আমাদের সূর্য থেকে ৩৯.৬ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে। এই নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে সাতটি গ্রহ যা সূর্য বাদে আবিস্কৃত অন্য যে কোন নক্ষত্রের গ্রহের সংখ্যা থেকে বেশি। নাসার অনুসন্ধান অনুযায়ী কমপক্ষে তিনটি এবং সর্বোচ্চ পাঁচটি গ্রহ পৃথিবীর মত হ্যাবিট্যাবল জোনে অবস্থান করছে।

ট্রাপিস্ট-১ আমাদের সূর্যের তুলনায় কম উত্তপ্ত এবং এর সবগুলো গ্রহ  সূর্য থেকে বুধ এর দূরত্বের সমান দূরত্বে অবস্থান করছে। এই গ্রহ গুলোতে পৃথিবীর মত আহ্নিক গতি নেই অর্থাৎ দিন রাতের কোন আবর্তন নেই। গ্রহগুলোর একপাশ সবসময় আলোকিত থাকে এবং অন্য পাশ সবসময় অন্ধকার থাকে।

Leave a Reply

Close Menu