৪০০০ বছর আগের প্রাচীন মায়া সভ্যতা

৪০০০ বছর আগের প্রাচীন মায়া সভ্যতা

প্রাচীন মায়া সভ্যতা ইতিহাসবিদ এবং পত্নতত্ত্ববিদদের কাছে এক বিশ্বয়কর সভ্যতা। আজ থকে প্রায় চার হাজার বছর আগে এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল দক্ষিণ-পূর্ব মেক্সিকো এবং উত্তর-মধ্য আমেরিকার এক বিশাল এলাকা জুড়ে। এই সভ্যতা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে রয়েছে অনেক মতভেদ ও ধোয়াশা। এই সভ্যতার আদিবাসীরা কিছু বিষয়ে দারুণ উন্নতি করেছিল। জোতির্বিজ্ঞান ও শল্য চিকিৎসায় তাদের অগ্রগতি ছিল রিতিমত চমকে দেয়ার মতো।

মায়া সভ্যতার আদিবাসীরা জোতির্বিজ্ঞানে অনেক উন্নতি সাধন করেছিল। ইতিহাসবিদদের মতে আঁতস কাচ আবিস্কার করেছিল এই মায়া সভ্যতার আদিবাসীরা। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর প্রথম ক্যালেন্ডারের ধারণা শুরু হয় এই সভ্যতাতেই।

শল্য চিকিৎসায় মায়া সভ্যতার আদিবাসীরা বেশ উন্নত ছিলেন। নিজেদের মাথার চুল ব্যাবহার করেই শরীরের বিভিন্ন ক্ষত স্থান শেলাই করে নিতেন তারা। ভাঙ্গা হাড় জোড়া দেওয়া থেকে শুরু করে পোকা ধরা দাতের ধাতব সিলিং করতে পারদর্শী ছিলেন এই সভ্যতার চিকিৎসকেরা।

মায়ান ক্যালেন্ডার
মায়ান ক্যালেন্ডার

এখন যেমন সপ্তাহের সাতটি দিনের আলাদা আলাদা নাম রয়েছে ঠিক তেমনি মায়া সভ্যতায় বছরের ৩৬৫ দিনের আলাদা আলাদা নাম ছিল। অর্থাৎ ৩৬৫টি দিনের ৩৬৫ টি নাম ছিল। মায়া সভ্যতায় সদ্যজাত শিশুর নামকরণের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ নিয়ম অনুসরণ করা হতো। যে দিনে শিশুটির জন্ম হতো সেই দিনের নাম অনুসারে শিশুটির নাম রাখা হতো। জন্মের ব্যাবধান অনুযায়ী একই দিনে জন্ম নেওয়া শিশুদের নামের কিছুটা ব্যবধান থাকতো।

শিশুর জন্মের পর তার কপালের উপর সমতল ধাতব পাথর চেপে রাখা হতো টানা কয়েক বছর। এর ফলে কপালের গড়ন পালটে চ্যাপ্টা বা সমতল আকার নিতো। এই প্রথা চালু ছিল বিশেষত সম্ভ্রান্ত রাজবংশের মধ্যেই।

মায়া সভ্যতার প্রায় বেশিরভাগ লোকের চোখ টেরা ছিল। প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাসের কারণে শিশুর জন্মের পর তার চোখের খুব কাছে কোন বস্তুকে নিয়মিত ধরে রাখা হতো। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকতো যতদিন না তার দুচোখের মণি টেরা হয়ে যায়।

প্রাচীন মায়া সভ্যতা

প্রাচীন মায়া সভ্যতার আদিবাসীরা সূর্যের উপাসনা করত। তারা মনে করতেন জন্ম-মৃত্যু, রোগ-ব্যাধি, খরা-বন্যা এসব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে সূর্য। উপাস্য দেবতা সূর্যকে সন্তুষ্ট করতে নর বলির প্রচলন ছিল এই সভ্যতায়। এই নরবলির জন্যে যুদ্ধ করে বা রত্ন বিনিময়ের মাধ্যমে মানুষ জোগাড় করতেন রাজ পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সংহতির জন্যে নিয়মিত নরবলির আয়োজন করা হতো।

সুসাস্থ্য ও আত্বিক শুদ্ধির জন্যে মায়ানরা বিশেষ উপায়ে স্টীম বাথ নিতেন। সন্তানের জন্মের পর মায়েদের এই রোদ্র স্নান ছিল বাধ্যতামূলক। পাথরের টালি দিয়ে তৈরী ছোট একটি ঘর, তার ভিতরে জল দিয়ে ভিজিয়ে ভিজিয়ে  স্টীম বাথের ব্যাবস্থা করা হতো।

মায়া সভ্যতা পৃথিবীর আদিম সভ্যতাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশ্বয়কর ও রহস্যময়। এই সভ্যতাকে ঘিরে রয়েছে অনেক মিথ ও পৌরাণিক কাহিনি। অনেক এলিয়েন বিশ্বাসী লোকেরা এই সভ্যতাকে এলিয়েনদের সাথে সংযুক্ত করেছেন। এই সভ্যতার হটাৎ করে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া সবচেয়ে বড় রহস্যের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Reply

Close Menu