পুঁজিবাজারে ভলিউম এনালাইসিস করে শেয়ার বাই সেল করবেন কিভাবে?

পুঁজিবাজারে ভলিউম এনালাইসিস করে শেয়ার বাই সেল করবেন কিভাবে?

পুঁজিবাজারে বা স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে হলে বিনিয়োগ শিক্ষার কোন বিকল্প নাই। আপনি লং টার্ম বা শর্ট টার্ম বিনিয়োগকারী যাই হোন না কেন আপনাকে স্টক এনালাইসিস করা অবশ্যই শিখতে হবে। অন্যের কথায় বা পরামর্শে বিনিয়োগ করলে আপনি হয়তো সাময়িকভাবে লাভবান হতে পারবেন; কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে পুঁজি হারাবেন এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে ফাইনেনশিয়াল এডভাইজার নিয়োগ করলে সেটা ভিন্ন বিষয়।

স্টক এনালাইসিস দুটি ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো

১. ফান্ডামেন্টাল এনালাইসি

২. টেকনিক্যাল এনালাইসিস

দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত স্টকের ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং এক্ষেত্রে টেকনিক্যাল এনালাইসিসকে তেমন একটা গুরুত্ব দেয়া হয় না। আবার একই ভাবে স্বল্প মেয়াদে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বা ট্রেডিং এর ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল এনালাইসিস এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিসকে তেমন একটা গুরুত্ব দেয়া হয় না। তবে স্বল্প মেয়াদে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্টকের ফান্ডামেন্টাল প্রপারটি মুটামুটি লেবেলের ভালো হলেও ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।  

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে ষ্টকের ভলিউম এনালাইসিস করে কিভাবে বাই সেল এর সিদ্ধান্ত নিবেন তা নিয়ে। এখানে বলে রাখা ভালো, এটি স্টকের টেকনিক্যাল এনালাইসিসের অংশ এবং দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগের জন্যে এটি প্রযোজ্য নয়। আপনি যদি শর্ট টার্মে বা সল্প মেয়াদে ট্রেড করে কিছু ইনকাম করতে চান তাহলে এই টেকনিক অবলম্বন করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

স্টকের ভলিউম এনালাইসিস বলতে কি বুঝায়?

স্টকের ভলিউম হচ্ছে ঐ স্টকের ব্লাড প্রেসারের মতো। এর তিনটি অবস্থা থাকতে পারে,

১. প্রেসার বাড়তে পারে

২. প্রেসার কমতে পারে

৩. প্রেসার স্বাভাবিক থাকতে পারে

ভলিউম বাড়া বা কমার সাথে স্টকের মূল্য কিভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে যে কোন স্টকের ভবিষ্যত মুভমেন্ট সম্পর্কে অনুমান করা যায়। স্টকের মূল্য সম্পর্কে এ ধরণের অনুমান বা প্রেডিকশনই হচ্ছে ভলিউম এনালাইসিস।  

ভলিউম এনালাইসিস করে শেয়ার বাই সেল

ভলিউম এনালাইসিস করে কিভাবে সিদ্ধান্ত নিবেন?

ভলিউম এনালাইসিস করে শেয়ার বাই সেল করার সিদ্ধান্ত নেয়ার অনেকগুলো টেকনিক আছে। এখানে আমি কিছু মৌলিক নিয়ম সম্পর্কে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করব।

১. বড় ভলিউমের সাথে দাম বৃদ্ধি এবং দিন শেষে হাই প্রাইচ ধরে রাখলে বুঝতে হবে বুলিশ মুভমেন্ট এর সিগনাল। এই সময় শেয়ার বাই করতে হবে।

২. বড় ভলিউমের সাথে দাম কমে গেলে এবং দিন শেষে লো প্রাইচ ধরে রাখলে বুঝতে হবে বিয়ারিশ মুভমেন্টের সিগনাল। এই সময় শেয়ার সেল করতে হবে।

৩. দিনের শুরুতে বড় ভলিউমে দাম বৃদ্ধি পেয়ে দিনের শেষে দাম কমে গেলে বুঝতে হবে বিয়ারিশ মুভমেন্টের সিগনাল। এই সময় শেয়ার সেল করতে হবে।

৪. টানা কয়েকদিন বড় ভলিউম নিয়ে দাম দৃদ্ধি পেয়ে পরের দিন অল্প ভলিউমে দাম কমলে বুঝতে হবে কারেকশান হচ্ছে এবং সামনে ভালো হবে। এই সময় শেয়ার বাই করতে হবে।

৫. বড় ভলিউমে কয়েকদিন পতনের পর হঠাৎ একদিন দাম বৃদ্ধি পেলে বুঝতে হবে এটি একটি ফাঁদ। এখানে ভূলেও এন্ট্রি নিবেন না।

৬. অল্প ভলিউমে অধিক হারে দাম কমে গেলে বুঝতে হবে সামনে এটি ভালো হবে। আপট্রেন্ড দেখলেই বাই করতে হবে।

৭. কোন রিউমারে ৩০-৪০% দাম বৃদ্ধি পেলে, নিউজ আসার সাথে সাথেই সেল করতে হবে। কারণ নিউজ আসার সাথে সাথেই দাম কমা শুরু হয়ে যাবে।

৮. ২০-২৫% দাম বৃদ্ধির পর ১০-১২% কারেকশানের পর আবার দাম বাড়তে শুরু করলে বাই করতে হবে। এটা বড় আপট্রেন্ডের লক্ষণ প্রকাশ করে।

৯. অল্প ভলিউমে অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধি পেলে ঐ স্টকে নতুন করে কোন এন্ট্রি নেয়া যাবে না। হোল্ডে থাকলে অপেক্ষা করতে পারেন।

১০. কিছুদিন যাবৎ কারেকশান হচ্ছে এবং কমতে কমতে এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে, মনে হচ্ছে আর কমবে না। ভূলেও এই শেয়ারে এন্ট্রি নেয়া যাবে না।

যদি উপরের প্রেডিকশনগুলো কোন স্টকের ক্ষেত্রে না মিলে তাহলে বুঝতে হবে সেখানে অস্বাভাবিক কিছু ঘটছে। এ ধরণের স্টকে এন্ট্রি নেয়া থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

শেষ কথাঃ

স্টক মার্কেট ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা। এখানে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে মাল্টি ফেক্টর নিয়ে চিন্তা করতে হবে। কোন একটি সিগনাল দেখেই বিনিয়োগ করে ফেললে তাতে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে। এক্ষেত্রে একাধিক ইন্ডিকেটর দেখে কনফার্মেশন পাওয়ার পরই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। পরিশেষে বিনিয়োগ শিক্ষার আজকের আলোচনা কেমন হলো তা অবশ্যই কমেন্টস সেকশনে জানাবেন। কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা কিংবা পরামর্শ থাকলে বলবেন এবং লেখার ভূল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

Leave a Reply

Close Menu