কল মেরিজ খেলার নিয়ম (কল ব্রিজ কার্ড গেম)

কল মেরিজ খেলার নিয়ম (কল ব্রিজ কার্ড গেম)

কল মেরিজ বা কল ব্রিজ খেলা কার্ড গেমের (তাস খেলা) মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষই জীবনের প্রথম যে কার্ড গেমটি শিখে তা হচ্ছে কল মেরিজ বা কল ব্রিজ খেলা। এটি এতো জনপ্রিয় হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে এর সহজ সরল নিয়ম কানুন।

তবে জেনে রাখা ভালো অঞ্চলভেদে কল মেরিজ বা কল ব্রিজ খেলার নিয়মের কিছু পার্থক্য রয়েছে, যা আমি লেখার মধ্যে যথাস্থানে উল্লেখ করবো। খেলা শুরুর পূর্বে এই নিয়মের পার্থক্যগুলো নিয়ে কথা বলে নেয়া উচিত। তা না হলে খেলার মাঝখানে অনেক সময় ঝগড়া বিবাদ কিংবা অনাকাংখিত অনেক ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

আমি ধরে নিচ্ছি পাঠক কার্ড গেম (তাস খেলা) সম্পর্কে কিছুই জানেন না এবং সেভাবেই একেবারে প্রাথমিক লেবেল থেকে লেখার চেষ্টা করছি।

কার্ড বা তাস পরিচিতিঃ

সকল ধরণের কার্ড গেম বা তাস খেলায় চার ধরণের কার্ড থাকে। প্রত্যেক জাতের কার্ডে মোট তেরোটি কার্ড থাকে। এভাবে হিসাব করলে কার্ড সংখ্যা দাঁড়ায় (৪*১৩=৫২) বায়ান্নটি। এছাড়া চারটি জুকার কার্ড থাকে। তবে কল মেরিজ বা কল ব্রীজ খেলায় জুকার কার্ডের কোন ব্যবহার নেই।

এক নজরে চার জাতের কার্ডের নাম দেখে নেইঃ

  • হার্ট বা হরতন
  • ডায়মন্ড বা রুইতন
  • স্পেড বা ইশকাপন
  • ক্লাবস বা চিড়াতন
কার্ড গেম

আমি আগেই বলেছি যে প্রত্যেক জাতের কার্ডের মধ্যে ১৩ টি করে কার্ড থাকে। এই কার্ড গুলোকে বড় থেকে ছোট আকারে সাজালে নিম্নরুপ হবেঃ

  • টেক্কা
  • কিং বা সাহেব
  • কুইন বা বিবি
  • জেক বা গোলাম
  • টেন বা ১০
  • নাইন বা নক্কা
  • এইট বা ৮
  • সেভেন বা ৭
  • সিক্স বা ৬
  • ফাইভ বা ৫
  • ফোর বা ৪
  • থ্রী বা ৩
  • টু বা ২
তাস খেলা

অর্থাৎ কল মেরিজ বা কল ব্রীজ খেলায় সবচেয়ে বড় বা শক্তিশালী কার্ড হচ্ছে টেক্কা এবং সবচেয়ে ছোট বা দুর্বল কার্ড হচ্ছে টু বা ২। কল মেরিজ খেলায় রং বা ট্রাম্প কার্ড নির্দিষ্ট এবং তা হচ্ছে স্পেড বা ইশকাপন।

কল মেরিজ খেলায় খেলোয়াড় সংখ্যাঃ

কল মেরিজ বা কল ব্রীজ সাধারণত চারজনে খেলা হয়। এক্ষেত্রে প্রত্যেকে আলাদা আলাদা খেলা যায় কিংবা দুই জন করে টিম গঠন করেও খেলা যায়। তবে এই খেলাটি তিনজনেও খেলা যায় এবং এক্ষেত্রে ইশকাপন বাদে যে কোন এক প্রকারের ১৩ টি কার্ড বাদ দিয়ে খেলতে হয়।

খেলা শুরু করার নিয়মঃ

খেলার শুরুতে একজন কার্ডগুলোকে শাফল বা এলোমেলো করবে। তবে শাফল করার সময় সকল কার্ড উপুর করে রাখতে হবে যেন কোনটা কোন কার্ড তা বুঝা না যায়। এরপর যিনি শাফল করবেন তার ডান পাশের খেলোয়ার কেটে দিবেন। ডান পাশ থেকে শুরু করে বাম পাশে সবাইকে একটি করে কার্ড বন্টন করতে হবে। এভাবে চারজনকে চারটি কার্ড দেয়া শেষ হলে আবার একই ভাবে পুনরায় চারজনকে চারটি কার্ড দিতে হবে। এভাবে সবগুলো কার্ড বন্টন করে শেষ করতে হবে এবং প্রত্যেকের হাতে ১৩ টি করে কার্ড থাকবে। মনে রাখতে হবে, নিম্নোক্ত দুটি কারণে খেলা বাতিল হবে এবং পূনরায় কার্ড বন্টন করতে হবেঃ

১. যদি একজনের কাছে চারটি টেক্কা পড়ে যায়

২. যদি কারো কাছে ইশকাপন (রং কার্ড) না থাকে

যিনি কার্ড বন্টন করেছেন তার ডান পাশের খেলোয়ার প্রথমে একটি কার্ড মাঝখানে উলটো করে রাখবে যেন সবাই তা দেখতে পায়। আর এভাবেই একটি কল মেরিজ বা কল ব্রীজ খেলা শুরু হয়ে যাবে।  

মূল খেলার নিয়মঃ

১. প্রথম খেলোয়ার যে জাতের কার্ড দিয়েছে পরবর্তী খেলোয়াড়কে সেই একই জাতের কার্ড দিতে হবে। প্রত্যেকে একই জাতের কার্ড দেয়ার পর যে খেলোয়ার সবচেয়ে বড় কার্ড দিবে তিনি সবগুলো কার্ড পাবেন। এক্ষেত্রে তিনি একটি পিঠ পেয়েছেন ধরা হবে।

২. যদি কারো কাছে একই জাতের কার্ড না থাকে তাহলে তিনি ট্রাম্প কার্ড (ইশকাপন) দিবেন। বাকী সবার কাছে একই জাতের কার্ড থাকলে যিনি ট্রাম্প কার্ড দিয়েছেন তিনি এই পিঠ পাবেন।

৩. যদি একাধিক খেলোয়াড়ের কাছে একই জাতের কার্ড না থাকে তাহলে তারা ট্রাম্প (ইশকাপন) কার্ড দিবে এবং যিনি অপেক্ষাকৃত বড় ট্রাম্প কার্ড দিবেন তিনিই এই পিঠ পাবেন। যদি ট্রাম্প বা রং কার্ড না থাকে তাহলে যে কোন কার্ড দিলেই হবে।

৪. অনেক জায়গায় মাস্ট বি অভার নিয়মে খেলা হয়। এক্ষেত্রে আগের খেলোয়াড়ের চেয়ে পরের খেলোয়াড়কে বড় কার্ড দিতে হয়। যদি বড় কার্ড না থাকে তাহলে ছোট কার্ড দিলেও চলে। তবে খেলা শুরুর পূর্বেই কোন নিয়মে খেলা হবে তা বলে নেয়া উচিত।

৫. আবার অনেকে মাস্ট বি ট্রাম্প প্লে নিয়মে খেলে থাকেন। এক্ষেত্রে জাতের কার্ড না থাকলে অবশ্যই রং করতে হবে। একাধিক প্লেয়ার ট্রাম্প করলে অবশ্যই পরের খেলোয়াড়কে বড় ট্রাম্প কার্ড দিতে হবে। তবে এই নিয়মটি নিয়ে খেলা শুরুর পূর্বেই কথা বলে নিতে হবে।

৬. এভাবে খেলা চলতে থাকবে এবং মোট তেরোটি পিঠ হবে। কে কত পিঠ পেলো তা স্কোর শীটে লিখতে হবে।

৭. এবার যিনি প্রথমে কার্ড বন্টন করেছিলেন তার ডানপাশের জন কার্ড বন্টন করার দায়িত্ব পাবেন। তবে এবার কার্ড বন্টন করা শেষ হলে ডাকা ডাকি পর্ব শুরু হবে।

৮. কার্ড বন্টন করা শেষ হলে প্রত্যেকে কার্ড হাতে নিয়ে অনুমান করবে যে কত পিঠ সে নিজে পাবে। প্রত্যেকে নিজেদের পিঠ সংখ্যা বলার পর তা লেখা হবে। প্রত্যেকের পিঠ সংখ্যা যোগ করার পর ১১/১২/১৩ কিংবা তার চেয়ে বেশি হতে পারে। সর্বনিম্ন কত পিঠে খেলা হবে তা আগেই বলে নিতে হবে। কেউ কম ডাকলে অন্য কেউ কমপক্ষে এক পিঠ বেশি দিয়ে তার কার্ড অদল বদল করতে পারবে। এভাবে ডাকাডাকি শেষ হলে প্রত্যেকের কল বা পিঠ সংখ্যা লিখে রাখা হবে।

৯. এবার আগের মতো একই ভাবে তেরো পিঠের খেলা শেষ হওয়ার পর কেউ তার কলের চেয়ে কম পিঠ পেলে সে যত কল করেছিল তা তার আগের পয়েন্ট থেকে মাইনাস করা হবে। এছাড়া কেউ দুই বা ততোধিক পীঠ বেশি পেলে তার পয়েন্টও মাইনাস করা হবে। দুই জন করে টিম বা গ্রুপ করে খেললে দুই জনের পয়েন্ট যোগ করে একসাথে লেখা হয়।

১০. এরপর সর্বশেষ যিনি কার্ড বন্টন করেছিলেন তার ডানপাশের ব্যাক্তি কার্ড বন্টনের দায়িত্ব পাবেন। আর এভাবেই চক্রাকারে কল মেরিজ বা কল ব্রীজ কার্ড গেম চলতে থাকবে।

চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণঃ

সাধারণত কল মেরিজ বা কল ব্রীজ খেলায় ৩০ পয়েন্টে গেম হয়। খেলা চলতে চলতে যে কোন খেলোয়াড় ৩০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ফেললে খেলা শেষ হবে এবং তিনি বিজয়ী হবেন। তবে খেলা শুরুর পূর্বে আলোচনা করে নিয়ে ২০/৪০/৫০ পয়েন্টের গেমও খেলা যেতে পারে।

শেষ কথাঃ

আমি চেষ্টা করেছি সবচেয়ে সহজ ভাষায় পাঠকদের কল মেরিজ বা কল ব্রীজ খেলার নিয়ম কানুন বুঝিয়ে দিতে। এখানে যে কোন নিয়ম বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্টস সেকশনে লিখবেন এবং আমি তার উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব। এছাড়া কোন নিয়ম আমার লেখায় বাদ পড়লে অবশ্যই তা কমেন্টস সেকশনে লিখবেন। লেখার ভূল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ!


আমাদের অন্যান্য লেখা সমূহঃ

অনলাইনে টাকা ইনকাম করার সহজ উপায়

দাবা খেলার নিয়ম কানুন

২৯ কার্ড গেম খেলার নিয়ম

দাবা খেলার বাংলা বই

জীবনে ভীন্ন কিছু করার উপায়

Leave a Reply

Close Menu