অনলাইনে টাকা ইনকাম করার সহজ উপায়! অনলাইন ইনকাম (Online Income)

অনলাইনে টাকা ইনকাম করার সহজ উপায়! অনলাইন ইনকাম (Online Income)

আপনি কি অনলাইনে টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় খুজছেন? আপনি যদি সত্যিই অনলাইনে কাজ করে টাকা ইনকাম করতে চান তাহলে এই লেখাটি হতে যাচ্ছে আপনার জন্যেই।

পৃথিবী খুব দ্রুতই পরিবর্তিত হচ্ছে। আজ থেকে দশ বছর আগে আমরা যা কল্পনা করতেও ভয় পেতাম আজকের দিনে তা বাস্তব। ২০১০ সালের আগে আমাদের দেশে অনলাইনে কেনাকাটা করার কথা সাধারণ মানুষ কি ভাবতে পেরেছিলো?

আজকের দিনে শিক্ষা, চিকিৎসা সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় যাবতীয় সেবার জন্যে আমরা অনলাইনে সার্চ করে বসি। এমনকি যে কোন বিষয়ে সহজে জানতে হলে অনলাইনে ঢু মারাটা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

কাজেই আমাদের জীবন জীবীকা অনলাইন ইন্টারনেটের উপর ক্রমাগত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। আনলাইন সার্ভিসের দ্রুত বর্ধনশীল চাহিদাই অনলাইন ইনকাম (Online Income) এর উপায় বৃদ্ধি করে চলছে।

বর্তমান সময়ে অনলাইনে টাকা ইনকাম করার হাজারো উপায় আছে। আজকে আমরা এমন কিছু উপায় নিয়ে আলোচনা করব যার মাধ্যমে আমাদের দেশের হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ ছেলে মেয়েরা টাকা ইনকাম করছে।

আপনি অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে এসে যখনই সহজ কোন উপায় খুজতে যাবেন তখনই বিড়ম্বনায় পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। যখনি অতি অল্প পরিশ্রমে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রাপ্তির কোন অফার দেখবেন তখনই সাবধান হয়ে যান। অনলাইনে আপনার যেমন টাকা ইনকামের সুযোগ রয়েছে ঠিক তেমনি টাকা হারানোরও সুযোগ রয়েছে।

আজকে আমরা অনলাইন থেকে আয় করার ১০ (দশ) টি জনপ্রিয় উপায় নিয়ে আলোচনা করব।  প্রথমে আমাদের আলোচ্য অনলাইন ইনকাম পদ্ধতিগুলো জেনে নেই এবং এই লেখার পরবর্তী অংশে কিছুটা বিশদ আলোচনা করা হবে।

অনলাইনে টাকা ইনকাম করার সহজ উপায়ঃ

  • ফ্রীলান্সিং
  • ইউটিউব 
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং
  • ড্রপ শিপিং
  • ব্লগিং
  • ইমেইল মার্কেটিং
  • ফেইসবুক
  • ফরেক্স ট্রেডিং
  • ভিডিও দেখে
  • গেম খেলে
অনলাইনে টাকা ইনকাম করার সহজ উপায়

১# ফ্রীলান্সিং করে অনলাইনে টাকা আয়ঃ

ফ্রীলান্সিং হচ্ছে অনলাইনে কারো কাজ করে বা কোন সার্ভিস দিয়ে আয় করার একটি পদ্ধতি। এই কাজ করে আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ তরুণী তাদের স্মার্ট ক্যারীয়ার গড়ছে।

ফ্রীলান্সিং যেহেতু অনলাইনে অন্যের কাজ করে বা সার্ভিস দিয়ে টাকা ইনকাম করার একটি পদ্ধতি সেহেতু এখানে কাজের ধরণ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আপনাকে কোন এক বা একাধিক কাজে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

উদাহরণ স্বরুপঃ গ্রাফীক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ফটোশপ এডিটিং, কন্টেন্ট রাইটিং, সোশাল মিডিয়া মার্কেটিং, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, ডাটা এন্ট্রি ইত্যাদি যে কোন কাজে আপনি দক্ষতা অর্জন করলেই ফ্রীলান্সিং করে টাকা ইনকাম করতে পারেন।

কিভাবে অনলাইনে ইনকাম করা যায়

অনলাইনে কাজ খুজার জন্যে অনেক ধরণের ওয়েবসাইট পাবেন। তবে আমাদের দেশের ফ্রীলান্সারদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইট হচ্ছে আপওয়ার্ক (upwork.com) এবং ফ্রীলান্সার ডট কম (freelancer.com)

ফ্রীলান্সিং এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে কমন যে সমস্যার কথা সবাই বলে থাকে তা হলো প্রথম কাজ পেতে সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হলো নিজের প্রোফাইলটা আগে সুন্দরভাবে সাজান এবং এরপর সিনিয়র কারো কাছ থেকে একটা কাজ নিয়ে ভালো একটা ফীডব্যাক নিন।

এটা আপানাকে সহজেই দ্বিতীয় আরেকটি কাজ পেতে সাহায্য করবে। নিজের শতভাগ দিয়ে কাজগুলো করুন এবং নিজের দক্ষতাকে বৃদ্ধি করুন। এভাবেই আপনি হয়ে উঠতে পারেন একজন সফল ফ্রীলান্সার।

২# ইউটিউব থেকে অনলাইন ইনকাম (Online Income):

ইউটিউব চ্যানেল খুলে আমাদের দেশের হাজার হাজার তরুণ তরুণী প্রচুর টাকা আয় করছে। বাংলাদেশের অনেক বড় বড় ইউটিউবাররা দশ থেকে বারো লক্ষ টাকা বা অনেকে আরো অনেক বেশি টাকা আয় করে থাকে।

ইউটিউব থেকে আয় করতে হলে আপনাকে ভিডিও কন্টেন্ট তৈরী করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে যে বিষয়ে আপনার জানাশুনা ভালো সে বিষয় নিয়ে আগানোই উত্তম। অনেকে ইউটিউবে ফ্যামিলী ব্লগিং করেও ভালো মানের ইনকাম করে থাকে।

কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল থেকে টাকা আয় করা যায়

ইউটিউব থেকে আয় করতে হলে আপনাকে প্রথমে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে তাতে আপনার ভিডিও আপলোড করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট পরিমান ভিউ এবং ওয়াচটাইম হলে আপনি মানিটাইজেশান পাবেন।

এরপর আপনার যে ভিডিওগুলো মানিটাইজেশনে দিবেন সেগুলো থেকে আয় হতে থাকবে। এছাড়া আপনার ভিডিওতে যদি কোন কোম্পানি স্পন্সর করতে চায় কিংবা আপনার ভিডিওতে তাদের এড শো করতে চায় তাহলেও আপনি পেমেন্ট পাবেন। এভাবেও আপনি ইউটিউব ভিডিও থেকে আয় করতে পারেন।

৩# এফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনলাইনে টাকা ইনকামঃ

এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে কোন কোম্পানির পণ্য বিক্রয় করে লভ্যাংশ থেকে কমিশন নেয়া। এক্ষেত্রে মজার বিষয় হচ্ছে আপনাকে কোন পণ্য সরাসরি ধরতে হবে না। আপনি শুধু কাষ্টমারকে নির্দিষ্ট এফিলিয়েট লিংক এর মাধ্যমে কোম্পানির কাছে পৌছে দিবেন। পণ্য বিক্রয় হলে আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পেয়ে যাবেন।

বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে স্মার্ট পেশার মধ্যে এফিলিয়েট মার্কেটিংকে প্রথম সারিতে রাখা হয়। কারণ এ ধরণের মার্কেটিং এ একটি প্রপার ফানেল তৈরী করে নিতে পারলে আনলিমিটেড ইনকাম করার সুযোগ রয়েছে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্যে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস গুলো হলো আমাজন, আলীবাবা, ই-বে, এনভাটো ইত্যাদি। তবে আমাদের দেশের বেশিরভাগ এফিলিয়েট মার্কেটাররা আমাজন এর এফিলিয়েট মার্কেটিং করে থাকে। এছাড়া যারা সফটওয়ার মার্কেটিং নিয়ে কাজ করেন তারা এনভাটোতে কাজ করে থাকেন।

অনলাইনে টাকা ইনকাম করার সহজ উপায়

এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর আলোচনা একটি বিশদ আলোচনা। সংক্ষেপে বললে, আপনাকে প্রথমে মার্কেটপ্লেসে একটি একাউন্ট খুলতে হবে। এরপর আপনার আপনার এফিলিয়েট লিংক নিয়ে আপনি বিভিন্ন উপায়ে মার্কেটিং করতে পারেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে সোশাল মিডিয়া মার্কেটিং, ব্লগিং, ইমেইল মার্কেটিং ইত্যাদি। ব্লগিং অংশের আলোচনায় পরবর্তীতে এ বিষয়ে আরো কিছু ধারণা পাবেন।

৪# ড্রপ শিপিং করে অনলাইন ইনকামঃ

ড্রপশিপিং হচ্ছে কোন কোম্পানির পণ্য কিনে নিয়ে তা লাভে বিক্রয় করে মুনাফা অর্জন করা। এক্ষেত্রে আপনাকে সরাসরি কোম্পানিকে পেমেন্ট করতে হবে। আপনি কাস্টমারের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে তারপর কোম্পানিকে পেমেন্ট করতে পারেন।

অনলাইনে টাকা ইনকাম করার সহজ উপায়

ড্রপশিপিং আপনি নিজস্ব ইকমার্স সাইট খুলে নিয়ে করতে পারেন অথবা মাল্টি ভেন্ডর সাইটে শপ খুলে নিয়েও করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রেও আপনাকে সরাসরি পণ্য নিয়ে ডিল করতে হবে না। আপনি কোম্পানিকে পেমেন্ট করার সময় কাস্টমারের ডেলিভারী এড্রেস দিয়ে দিলে পণ্য সরাসরি কাস্টমারের কাছে চলে যাবে।

৫# ব্লগিং করে অনলাইনে সহজে আয় করার উপায়ঃ

ব্লগিং আপনি অনেকভাবে করতে পারেন। ফ্রী সাইটে ব্লগ ওপেন করে কিংবা নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্লগিং করতে পারেন। ফ্রী সাইটগুলোতে ব্লগ খুললে অনেক রেস্ট্রিকশন থাকে এবং সাবডোমেন হওয়ার কারণে গুগুল র‍্যাংকিং পেতে সমস্যা হয়।

তাই এক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হচ্ছে ডোমেইন হোস্টিং কিনে নিয়ে একটি ফ্রী থিম ইউজ করে ওয়েবসাইট তৈরী করে নেয়া। এক্ষেত্রে আপনার সব মিলিয়ে খরচ পড়বে মাত্র ৩০০০ টাকা। এক্ষেত্রে কোন সহযোগিতা লাগলে অবশ্যই নক করবেন।

ব্লগিং এর ক্ষেত্রে কি বিষয় নিয়ে আপনি লিখবেন তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে আপনি খুব ভালো জানেন এমন একটি বিষয় নির্বাচন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

অনলাইন ইনকাম পদ্ধতি

ব্লগিং থেকে কিভাবে আয় করা যায়?

ব্লগিং থেকে আয় করার অনেকগুলা উপায় আছে। যেমনঃ গুগুল এডসেন্স, এফিলিয়েট মার্কেটিং, এডভারটাইজমেন্ট ইত্যাদি।

আপনার ব্লগে কিছু ভালো মানের কন্টেন্ট আপলোড করার পর গুগুল এডসেন্স এ আবেদন করতে পারবেন। এডসেন্স এপ্রুভ হলে গুগুল আপনার ব্লগে এড দিবে। ভিজিটররা আপনার ব্লগে এসে এড দেখলে কিংবা ক্লিক করলে তা থেকে আপনি এডসেন্স কমিশন পাবেন।

এছাড়া ব্লগিং এর মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং করা বর্তমান সময়ে খুবই জনপ্রিয়। আপনার ব্লগে আপনি এফিলিয়েট প্রোডাক্ট নিয়ে লিখতে পারেন কিংবা প্রোডাক্টের সাথে সম্পর্কিত কোন লেখায় এফিলিয়েট লিংক শেয়ার করে আয় করতে পারেন।

এছাড়া আপনার ব্লগে যথেষ্ট পরিমাণ ভিজিটর আসা শুরু হলে বিভিন্ন কোম্পানির এডভার্টাইজম্যেন্টের জন্যে অফার পেতে পারেন। এভাবে এড শো করেও ব্লগিং এর মাধ্যমে আয় করা যায়।

অনলাইন থেকে আয় করার অন্যান্য জনপ্রিয় উপায়ঃ

এছাড়াও অনলাইনে আয় করার জনপ্রিয় কিছু মাধ্যম হচ্ছে ইমেইল মার্কেটিং, ফেইসবুক, ফরেক্স ট্রেডিং, অনলাইন জব, অনলাইনে টিশনি, অনলাইন কোর্স করানো, ভিডিও দেখা, গেম খেলে ইনকাম করা ইত্যাদি।

সবগুলো বিষয় নিয়ে লেখার ইচ্ছা থাকলেও লেখাটি বড় হয়ে যাওয়ায় আর লিখছি না। তবে আপনাদের আরো বিস্তারিত জানার আগ্রহ থাকলে কমেন্টস সেকশানে অবশ্যই লিখবেন। আপনাদের আগ্রহের বিষয় নিয়ে পরবর্তীতে লেখার অপেক্ষায় থাকলাম। লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ।


লেখকের অন্যান্য লেখাসমূহঃ

ঘরে বসে ব্যাংক একাউন্ট খুলার পদ্ধতি

বিখ্যাত মনীষীদের উক্তি

দাবা খেলার নিয়মকানুন ও সূত্র

পুজিবাজারে ভালো শেয়ার চেনার উপায়


Leave a Reply

Close Menu